1. mohammadrakib230@gmail.com : dailymohanogor :
কেমন আছেন রাজশাহী সেই ২৩ দিনের ভাইরাল হওয়া শিশু হাফসা? - দৈনিক মহানগর 24.কম

কেমন আছেন রাজশাহী সেই ২৩ দিনের ভাইরাল হওয়া শিশু হাফসা?

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ১২৭ দেখুন

মোঃ পাভেল ইসলাম:বয়স মাত্র ২৩ দিন,,শ্বাসকষ্টে নিয়ে ভুগছিলেন শিশু হাফসা। শিশুটিকে বাঁচাতে মায়ের প্রাণান্ত আকুতি ছিলো। হাফসাকে মুখ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দিতে দিতে রিকশা নিয়ে ছুটে আসেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনাটি গত শনিবার দুপুরের। শিশুটির মা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে ছুটছিলেন। আর সেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সর্বত্র।ওই সময় সেখানে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীরা ছবিটি ধারণ করেন। তারপর ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঠকদের অনেকেই শিশু হাফসার সর্বশেষ অবস্থা জানতে রাজশাহীর সাংবাদিকদের কাছে ফোনে খোঁজ নেন।

রাজশাহী নগরীর হাদির মোড় বউবাজার এলাকার সজল মনি ওরফে সিজার ও রুম্পা খাতুন দম্পতির প্রায় একমাস বয়সী এই ছেলে সন্তানের নাম হাফসা। গত শনিবার হঠাৎ করেই হাফসার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ওই সময় কোনো উপায়ন্তর না দেখে বাবা-মা হাফসাকে নিয়ে ছুটেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।শিশু হাফসার পরিবার জানিয়েছেন, সোমবার চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে শিশুটি। এখন পুরোপুরি ভালো আছে হাফসা।

কী ঘটেছিল সেদিন?

গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে হাফসাকে গোসল করান তার দাদী স্বাধীনা বেগম। তিনি গোসলের পর শিশুটির শরীরের পানি মোছানোর সময় টের পান হাফসা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে না ঠিকমত শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কি না। মুখ দিয়ে উঠতে শুরু করেছে ফেনা জাতীয় পদার্থ। চোখের পলক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুহূর্তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা ।

মঙ্গলবার দুপুরে হাফসার সঙ্গে খেলতে খেলতে তার মা এভাবেই বর্ণনা করছিলেন সেদিনের পরিস্থিতি। তিনি জানান, শিশুটিকে প্রথমে নেয়া হয় বাড়ির পাশের এক মৌলভীর কাছে। দোয়া কালাম পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে ও কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে তার মাথায় আসে হাসপাতালে নেয়ার কথা। ঠিক তখনই শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। আর কোন কিছু না ভেবে সিজারিয়ান অপারেশন করা মা ছুটে বেরিয়ে পড়েন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।রুম্পা খাতুন জানান, লকডাউনের বিধিনিষেধের কারণে সেসময় বাড়ির সামনে কোনো যানবাহন না পেয়ে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দৌড়ানো শুরু করেন। খবর দেন বাচ্চার বাবাকে।

রাস্তার মধ্যে দেখতে পান এক মোটরসাইকেল আরোহীকে। তাকে অনুরোধ করতে তিনি কিছুদূর এগিয়ে দেন।এরইমধ্যে রিকশার সন্ধান পান বাবা। হাফসার বাবা-মা যখন রিকশায় উঠছিলেন তখন পরিস্থিতি দেখে পাশের এক ব্যক্তি বলেন, মুখ দিয়ে বাইরে থেকে বাতাস দিলে শিশুটির জীবিত থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। এটি শোনার পর রিকশায় উঠে একবার বাবা একবার মা, সন্তানের মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখেন।রুম্পা বলেন, যখন হাসপাতালের কাছে পৌঁছায় তখন আর মুখ দিয়ে বাতাস দিতে পারছিলাম না। আমি ওর বাবাকে মুখ দিয়ে বাতাস দিতে বলি। রিকশাটি যখন হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছে তখন হঠাৎ করেই কেঁদে ওঠে হাফসা।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটিকে প্রথমেই অক্সিজেন দেন। ভর্তি করেন হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে চিকিৎসকরা হাফসার বাবা মাকে জানান, খিঁচুনি জনিত সম্যসায় এমনটি হয়েছিল। দুইদিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন হাফসা।

সোমবার চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এসেছে শিশু হাফসা। তাকে নিয়ে এখন পরিবারে অন্তহীন আনন্দ। প্রতিবেশীরা ও আসছে তাকে এক নজর দেখতে। হাফসার চেয়ে বছর চারেকের বড় বোন শ্রেয়ার আনন্দটা যেন আরও বেশি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, শনিবার সকালে হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় শিশু হাফসার। এক পর্যায়ে শিশুটি নিথর হয়ে পড়ে। মা রেশমা বিষয়টি বুঝতে পেরে মুখ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস দিতে দিতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়। মায়ের বুদ্ধিমত্তা আর চিকিৎসক-নার্সদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে নতুন জীবন ফিরে পায় শিশুটি।তিনি আরও জানান, শিশু হাফসা এখন ভালো আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© Copyright 2019 All rights reserved dailymohanogor24
Customized BY NewsTheme